ট্রিগার ফিঙ্গার” বা “আঙ্গুল আটকে যাওয়া রোগ:কি ও কেন হয় ?

হাত মুঠো করার পর আঙুল আটকে যায়, আবার সোজা করতে গেলে ব্যথায় অনেক কষ্ট হয়। এ সমস্যায় অনেকেই ভুগেন, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে। যার অন্যতম কারণ হল “ব্যথায় আঙ্গুল আটকে যাওয়া রোগ”। অনেক সময় আঙুল খুলতে গিয়ে অনেকটা পিস্তলের ট্রিগারের মতো শব্দ হওয়ায় এই সমস্যাটিকে “ট্রিগার ফিঙ্গার”ও বলা হয়।

আরো হেলথ ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন

♦ট্রিগার ফিঙ্গার কি ও কেন হয় ?

– আমাদের আঙুল ভাঁজ করার জন্য হাতের মাংসপেশীর টেন্ডন/রগগুলো সাহায্য করে
– রগগুলোর চারিদিকে পাতলা পর্দার আবরণ
(টেন্ডন সিথ) থাকে
– এই সিথ বা পর্দাগুলো অনেক সময় প্রদাহের কারণে মোটা হয়ে শক্ত হয়ে যায়
– ফলে পর্দার ভিতরে টেন্ডন/রগ আটকা পড়ে যায়,
– যার কারণে আঙুল ভাঁজ করা অবস্থা থেকে সোজা করতে গেলে খট করে শব্দ হয় এবং ব্যথা লাগে।

♦উপসর্গ সমূহ কি কি ?

– যেকোনো আঙুল আক্রান্ত হতে পারে, তবে বুড়ো আঙুল, মধ্যমা ও রিং ফিঙ্গার বেশি আক্রান্ত হয়
-হাতের আঙ্গুল ভাজ করতে বা সোজা করতে কষ্ট হয়
-আঙুলের আক্রান্ত জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা হয়
-সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আঙ্গুল খুলতে না পারা
-অনেকসময় আঙুল ভাঁজ হয়ে আটকে যায়,
কিন্তু সোজা করতে গেলে খট করে শব্দ হয় এবং প্রচণ্ড ব্যথা হয়

♦ কারণ কি ?

– এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি
– তবে কিছু রোগ ত্বরান্বিত করে,
যেমনঃ ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি
– যারা অতিরিক্ত হাতের কাজ করেন,
যেমনঃ গৃহিনী, টাইপিস্ট, গার্মেন্টস শ্রমিক, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার ইত্যাদি

♦ কারা ঝুকিতে আছেন ?

– সাধারণত এই সমস্যা বয়সের সাথে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
– পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি হয়

♦ কিভাবে রোগ নির্ণয় হয় ?

রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগের ইতিহাস জানা ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক শারীরিক কিছু পরীক্ষাই যথেষ্ট।
তবে রোগটি নিশ্চিতকরন ও অন্যান্য রোগ থেকে আলাদা করার জন্য কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন। যেমনঃ
– কিছু রক্ত পরীক্ষা
– হাতের এক্স-রে ও
– হাতের আলট্রাসাউণ্ড ইত্যাদি

♦ চিকিৎসা কি ?

এ রোগের চিকিৎসার জন্য একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত চিকিৎসা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ……
• জীবনধাঁরার পরিবর্তন
• ওষুধ
• ব্যায়াম
• ফিজিক্যাল থেরাপি
• অর্থোসিস
• ইনজেকশন

➡️জীবনধাঁরার পরিবর্তনঃ
– আক্রান্ত আঙ্গুলগুলোকে বিশ্রাম দেয়া
– দীর্ঘক্ষণ হাতের কাজ কম করা
– ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা ইত্যাদি

➡️ওষুধঃ
ব্যথানাশক ওষুধ- এন, এস, এ, আই, ডি ও পায়ের তালুতে মলম দিয়ে ম্যাসাজ করা।

➡️ব্যায়ামঃ
নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আঙ্গুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ
হাতের আঙ্গুলের রগের প্রসারণকরণ ব্যায়াম

➡️ফিজিক্যাল থেরাপিঃ
ফিজিওথেরাপির মধ্যে আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ও শকওয়েভ থেরাপি বেশ কার্যকর

➡️অর্থোসিসঃ
হাতের আঙ্গুলের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য “ফিঙ্গার স্প্লিন্ট” ব্যবহার করা যেতে পারে

➡️ইনজেকশনঃ
ব্যথা দীর্ঘমেয়াদি বা তীব্র হলে, আলট্রাসাউন্ড মেশিনের মাধ্যমে টেন্ডন/রগের চারপাশে ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে।

♦ রোগের পরিণতি কি?
– সঠিক চিকিৎসা নিলে এ রোগ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়
– উপরোক্ত চিকিৎসায় ভালো না হলে, অপারেশনের মাধ্যমে আঙুলের যে স্থানে টেন্ডন/রগ নড়তে সমস্যা হচ্ছে সেটা ছাড়িয়ে দিতে হয়

♦সম্পাদনায় ———————————————
ডাঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান
এমবিবিএস; এফসিপিএস
বাত-ব্যথা, মেরুদন্ড-জয়েন্ট পেইন ও
আর্থ্রাইটিস বিশেষজ্ঞ
কনসালটেন্ট,
পার্কভিউ হসপিটাল প্রাঃ লিঃ চট্টগ্রাম
যোগাযোগঃ 01828 44 79 66

আরো হেলথ ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.