অস্টিওপরোসিস বা হাঁড় ফোপরা রোগের চিকিৎসা

অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।সাধারনত নিম্নোক্ত ঔষধ গুলো বেশি ব্যবহৃত হয়………আরো হেলথ ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন

১.বিসফোসফোনেট
২.হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি
৩.ক্যলসিটোনিন
৪.প্যারাথাইরয়েড হরমোন
৫.ডেনোসুমেব
৬.ক্যালসিয়াম
৭.ভিটামিন ডি

আসুন একটু বিস্তারিত জেনে নিই……

১.বিসফোসফোনেট:

অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসার জন্য একটি অন্যতম ঔষধ। এটি হাঁড় ক্ষয়কারী কোষের কার্যকারীতা নষ্ট করে দেয়।ফলে হাঁড়ের খনিজ উপাদান গুলোর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, হাড় মজবুত হয়।

→সেবন বিধি: ট্যাবলেট আকারে সপ্তাহে বা মাসে একবার করে মুখে নেয়া যায়। এ ছাড়া শিরার রক্তপ্রবাহে ইনজেকশনের মাধ্যমে নেয়া যায়।ইনজেকশন গুলো বেশি কার্যকরী।

→পার্শ্ব প্রতিকৃিয়া: গলায় ও পেটে জ্বালা পোড়া, বমিবমি ভাব,হালকা জ্বর, দুর্বলতা ও শরীর ব্যথা হতে পারে।

২.হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপিঃ

যাদের শরীরে সেক্স হরমোনের ঘাটতি আছে, বিশেষ করে তাড়াতাড়ি মাসিক বন্ধ হওয়া মহিলাদের জন্য এটি ভাল ঔষধ ।
মহিলাদের জন্যে “ইস্ট্রোজেন” এবং
পুরুষদের জন্যে “টেস্টোস্টেরন”
হরমোন দেয়া হয়।

→সেবনবিধিঃ সাধারণত দৈনিক ট্যাবলেট আকারে মুখে খেতে হয়।

→পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে জরায়ুর প্রদাহ, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে।

৩,ক্যলসিটোনিনঃ
এটি এক ধরনের হরমোন, যা হাঁড় ক্ষয়কারী কোষের কাজকে দমন করে।এটা ঋতুবন্ধ পরবর্তী মহিলাদের জন্য বেশী কার্যকরী।

→সেবনবিধিঃ নাকের ছিদ্র দিয়ে স্প্রের মাধ্যমে নিতে হয়।

→পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ ফুস্কুড়ি, মুখে লালচে ভাব,নাক দিয়ে পানি/রক্ত পড়া ইত্যাদি।

 

৪,প্যারাথাইরয়েড হরমোনঃ
এটিও এক ধরনের হরমোন, যেটা হাঁড়ের উপাদান গুলোর ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। হাঁড় ভাঙার খুব ঝুঁকিপূর্ণ অস্টিওপোরোসিস রোগীদের জন্য বেশী কার্যকরী।

→সেবনবিধিঃ চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে হয়।

→পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ পা কামড়ানো, বমি ভাব, তন্দ্রাচ্ছন্নভাব ইত্যাদি।

৫,ডেনোসুমেবঃ
এটি এক ধরনের এন্টিবডি, যেটা হাঁড় ক্ষয়কারী কোষের কার্যকারীতা প্রশমিত করে দেয়।ফলে হাঁড়ের খনিজ উপাদান গুলোর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, হাড় মজবুত হয়। হাঁড় ভাঙার খুব ঝুঁকিপূর্ণ অস্টিওপোরোসিস,বিশেষ করে স্তন ও প্রোস্টেট ক্যান্সার রোগীদের জন্য বেশী কার্যকরী।

→সেবনবিধিঃ চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে হয়।

→পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ হাত-পায়ের গিরা ও মাংসপেশীতে ব্যথা, রক্তে ক্যালসিয়াম হ্রাস, ফুস্কুড়ি ইত্যাদি ।

৬,ক্যালসিয়ামঃ
হাড় গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম তৈরি হয় না, কিন্তু নিয়মিতভাবে বের হয়ে যায়।তাই খাদ্য ও ঔষধের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা অপরিহার্য।

→সেবনবিধিঃ প্রাপ্ত বয়স্কে দৈনিক ১০০০-১২০০মি,গ্রা, ক্যালসিয়াম প্রয়োজন

→পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ কোষ্ঠকাঠিন্য, পিপাসা, রক্তচাপ বৃদ্ধি ইত্যাদি ।

৭.ভিটামিন ডিঃ
এটি শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়ানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শতকরা ৭০ ভাগ ভিটামিন ডি সূর্যের আলো থেকে পাই।

→সেবনবিধিঃ প্রাপ্ত বয়স্কে দৈনিক ৪০০-৮০০ আই,ইউ, ভিটামিন ডি প্রয়োজন

→পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ রক্তে ক্যালসিয়ামের আধিক্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি ভাব, ক্ষুধামন্দ্যা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, কিডনি ইনজুরি ইত্যাদি।

**বিঃদ্রঃ যেকোনো ঔষধের মাত্রা, সেবনবিধি ইত্যাদি, রোগীর শরীরের সার্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। সুতরাং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ খাওয়া উচিত নয়।

আরো হেলথ ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.